স্টাফ রিপোর্টার
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১৪৮টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে। পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ ও বাড়াবাড়ি নিয়েই বেশিরভাগ অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে ক্রসফায়ারে হত্যা, পুলিশ-র্যাব কর্তৃক রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন, আদালতের ওয়ারেন্ট ছাড়া অবৈধ আটক, বিচারবহির্ভূত হত্যা, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতন, অমানবিক শাস্তি, জীবনের নিরাপত্তা না থাকা ইত্যাদি। মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত এসব অভিযোগ সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে আমার দেশকে বলেন, কোনো সভ্য সমাজে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটা উচিত নয় এবং এটা চলতে দেয়া যায় না। আইন অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনাই সমর্থযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনক। কোনো নাগরিক অপরাধী হলেও তার বিচারের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিতে পারে না। বিচারের দায়িত্ব হচ্ছে বিচার বিভাগের। দায়েরকৃত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে আইন অনুযায়ী কমিশনের নিজস্ব এখতিয়ার অনুযায়ী অভিযুক্তদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার চাপে ২০০৮ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরীকে এ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রয়োজনীয়সংখ্যক লোকবলের অভাবে এ কমিশনের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়নি। বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরীর অবসর গ্রহণের পর কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়। একইসঙ্গে কমিশনকেও পুনর্গঠন করা হয়।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দায়ের করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১৪৮টি অভিযোগের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব কর্তৃক নির্যাতনের অভিযোগ ১৫টি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অবৈধভাবে আটকের অভিযোগ ৮টি, নিখোঁজ সম্পর্কিত অভিযোগ ৬টি, জীবনের নিরাপত্তা সম্পর্কিত অভিযোগ ২৬টি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক অবস্থায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত অভিযোগ ৬টি, অমানবিক শাস্তি সম্পর্কিত অভিযোগ ৪টি। এছাড়া চাকরি সম্পর্কি অভিযোগ ২১টি, সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কিত অভিযোগ রয়েছে ১৬টি, শিশু অধিকার সম্পর্কিত অভিযোগ রয়েছে ৩টি এবং বিবিধ ২৩টি অভিযোগ। খ্রিস্টিয়ান ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (সিডিএ) নির্বাহী পরিচালক উইলিয়াম নিকলাস গমেজ স্বাক্ষরিত কমিশনে দায়ের করা একটি অভিযোগপত্রে বিচারবহির্ভূত একটি হত্যাকাণ্ডের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী কলেজের ছাত্র হাফিজুর রহমান শাহীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার চৈতন্যপুর গ্রামে মফিজুল ইসলামের বাড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। বিচারবহির্ভূত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে আবেদনে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের মাধ্যমে এ ঘটনার তদন্ত হলে তদন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। এ ধরনের অভিযোগ অন্য আবেদনগুলোতেও। আবেদনকারীরা মানবাধিকার কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়েছেন। তারা র্যাব-পুলিশের হাতে নির্যাতনের বিবরণ নিয়ে বেশকিছু অভিযোগও করেছেন। উল্লেখ্য, মানবাধিকার কমিশনে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি। ছোটখাটো ঘটনায়ও অনেক রাজনীতিবিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সমিতি সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে সারাদেশে ৮৪ জন গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৬ মাসে ৬১ জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় ৯ আসামির মৃত্যু হয়েছে। ২ জন সাংবাদিক নিহত, ৫২ জন আহত ও ৩৫ জন হুমকির শিকার হয়েছেন।
কমিশনের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, পরামর্শকের তৈরি করা অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এ কমিশনের লোকবল প্রয়োজন ১২৮ জন। অর্থ মন্ত্রণালয় তা কাটছাঁট করে ২৮ জনের নিয়োগ অনুমোদন করেছে। বর্তমানে তদন্ত ও অনুসন্ধান করার মতো কমিশনে লোকবল ৪/৫ জনের বেশি নেই। কাজেই অভিযোগগুলোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী আমরা কিছু তদন্ত করছি। বাকিগুলো কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত ও অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হবে। কমিশনের আইনেই কমিশনকে এ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমাদের লোকবলের সঙ্কট রয়েছে। এছাড়াও বাজেটও একটি বড় বিষয়। আমাদের এগুলোর দিকে তাকালে চলবে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন একটি শক্তিশালী আইন। এ আইনে কমিশনকে অনেক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমরা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কমিশনের দায়দায়িত্বও অনেক।
দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ড. মিজানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নির্ভর করে মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রিমান্ডে আসামির ওপর নির্যাতন, আসামিকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করা ও গুপ্তহত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনাই সমর্থনযোগ্য নয়। এগুলো দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। আমরা জেনেশুনে দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে দিতে পারি না। কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা এসব বিষয় নিয়ে র্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের ঢাকা মহানগর কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের উদ্বেগের কথা তাদের জানিয়েছি। তিনি বলেন, মামলার প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে নেবে। আইন মেনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আবার তাকে আদালতের কাছে সোপর্দ করবে। বিচারের দায়িত্ব হচ্ছে বিচার বিভাগের। কোনো আসামির বিচারের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নয়। বাংলাদেশ নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে সব নাগরিকের মৌলিক ও মানবাধিকার সংরক্ষণ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হচ্ছে আইনের প্রয়োগ করা। তাদের হাতেই যদি আইনের লঙ্ঘন হয় কিংবা কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব হয়, তাহলে সেটা হবে বড়ই দুর্ভাগ্যজনক। একজন নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। এটা দেখে তার বিপরীত মতের অন্য নাগরিকের খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা এর শিকার তিনিও একদিন হতে পারেন। কাজেই প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার সংরক্ষণে সবারই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান আমার দেশকে বলেন, মানবাধিকার কমিশনে যে অভিযোগগুলো এসেছে, তার বাইরেও প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। নারী নির্যাতনের ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর হত্যা, গুপ্তহত্যা, রিমান্ডে নির্যাতনের ঘটনা অনেক বেড়েছে। কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য এ ধরনের ঘটনা বিপজ্জনক। এ ধরনের ঘটনা থেকে নাগরিকদের মুক্ত রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র সঠিক দায়িত্ব পালন করলে সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/07/27/36375
Monday, 26 July 2010
যুদ্ধাপরাধ বিচারে নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান চায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
কূটনৈতিক প্রতিবেদক | Prothom Alo ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০১০, ১২ শ্রাবণ ১৪১৭, ১৪ শাবান ১৪৩১
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে যুদ্ধাপরাধের বিচারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এই বিচার-প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনীতিকে না জড়াতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল সোমবার ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ওই দুই দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা যাতে ন্যায়বিচার ও আইনি সুরক্ষা পান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিচার-প্রক্রিয়া যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়, সেটাও দেখতে হবে।
মার্কিন মুখপাত্র আরও বলেন, ‘বিচার-প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো উচিত হবে না। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বিষয়টি খুব জরুরি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, যুদ্ধাপরাধের বিচারে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না সেটা খুব জরুরি।
‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকার এবং এ দেশের জনগণের যে প্রত্যয় রয়েছে, সেটা আমরা বুঝতে পারি’—মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক মুখপাত্র।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই (যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে) যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-07-27/news/82011
যুদ্ধাপরাধ বিচারে নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান চায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
কূটনৈতিক রিপোর্টার
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে তারা এ বিচারে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং এটাকে রাজনীতিকরণ না করার তাগিদ দিয়েছে।
গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ শুরু হওয়ার পর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের সরকারের এ মনোভাবের কথা জানায়।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানান, অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও গ্রেফতার হওয়া যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ভালো আচরণ করার পাশাপাশি তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত। এছাড়া এ বিচার রাজনৈতিকভাবে না হয়ে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া উচিত।
এদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের একজন মুখপাত্র জানান, যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মনোভাব সম্পর্কে যুক্তরাজ্য অবগত। তবে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানের দেখতে চায়।
প্রসঙ্গত, এর আগে ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী অ্যালান ডানকান বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে সংঘটিত অপরাধের বিচার করা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে এ বিচার রাজনৈতিকভাবে নয়, সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/07/27/36388
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে যুদ্ধাপরাধের বিচারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এই বিচার-প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনীতিকে না জড়াতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল সোমবার ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ওই দুই দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা যাতে ন্যায়বিচার ও আইনি সুরক্ষা পান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিচার-প্রক্রিয়া যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়, সেটাও দেখতে হবে।
মার্কিন মুখপাত্র আরও বলেন, ‘বিচার-প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো উচিত হবে না। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বিষয়টি খুব জরুরি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, যুদ্ধাপরাধের বিচারে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না সেটা খুব জরুরি।
‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকার এবং এ দেশের জনগণের যে প্রত্যয় রয়েছে, সেটা আমরা বুঝতে পারি’—মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক মুখপাত্র।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই (যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে) যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-07-27/news/82011
যুদ্ধাপরাধ বিচারে নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান চায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
কূটনৈতিক রিপোর্টার
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে তারা এ বিচারে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং এটাকে রাজনীতিকরণ না করার তাগিদ দিয়েছে।
গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ শুরু হওয়ার পর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের সরকারের এ মনোভাবের কথা জানায়।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানান, অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও গ্রেফতার হওয়া যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ভালো আচরণ করার পাশাপাশি তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত। এছাড়া এ বিচার রাজনৈতিকভাবে না হয়ে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া উচিত।
এদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের একজন মুখপাত্র জানান, যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মনোভাব সম্পর্কে যুক্তরাজ্য অবগত। তবে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানের দেখতে চায়।
প্রসঙ্গত, এর আগে ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী অ্যালান ডানকান বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে সংঘটিত অপরাধের বিচার করা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে এ বিচার রাজনৈতিকভাবে নয়, সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/07/27/36388
Saturday, 24 July 2010
১২ দিনেও খোঁজ নেই মুর্তজার : গুম-হত্যার আশঙ্কা বাবা-মার
নাছির উদ্দিন শোয়েব
ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের পর এবার ১২ দিন ধরে নিখোঁজ শিবির নেতা গোলাম মুর্তজা (৩০)। দু’জনের নিখোঁজ হওয়ার ধরন প্রায় একই। চৌধুরী আলমকে পুলিশ পরিচয়ে এক মাস আগে আটক করা হয় ইন্দিরা রোড থেকে। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ নেই। অন্যদিকে মুর্তজাকেও ডিবি পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে আটক করে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে। তারও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মুর্তজা বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে জানে না পরিবার। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গত ১৪ জুলাই আটক করে মাইক্রোবাসে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা। প্রিয় ছেলের সন্ধান না পেয়ে গুম, হত্যার আশঙ্কায় মুর্তজার বাবা-মার ঘুম নেই। তার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে উদ্বিগ্ন পরিবারটি। আত্মীয়স্বজনরা ডিবি, সিআইডি, র্যাব ও ধানমন্ডি থানায় গিয়ে খোঁজ করেছেন। কেউ সন্ধান দিতে পারেনি। কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে? কোথায় রাখা হয়েছে তারা জানতে চান। এ ব্যাপারে আত্মীয়স্বজনরা হাইকোর্টে রিটও করেছেন। আদালত স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশকে এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্তজাকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনও কোনো সংস্থা মুর্তজাকে আটক করার কথা স্বীকার করেনি।
মুর্তজার বাবা-মা ছেলের চিন্তায় ব্যাকুল। মুর্তজা বেঁচে আছে কিনা জানেন না। বেঁচে থাকলে কেন তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। ছেলের খোঁজে বাবা আবদুল লতিফ ও মা গুলনাহার রাজশাহী থেকে ঢাকা এসে বিভিন্ন স্থানে খুঁজছেন। উপায়ন্তর না দেখে গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা বলেন, আমাদের ছেলের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। কোনো থানায় মামলা নেই। তাকে কী কারণে আটক করা হলো? কারা আটক করছে আমরা কিছুই জানি না। সে কোনো অপরাধ করে থাকলে আইনের হাতে তুলে দেয়া হোক।
যেভাবে আটক হয় : গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় গোলাম মুর্তজা তার বন্ধু আবদুল্লাহ সাবিতকে নিয়ে পুরানা পল্টন থেকে মোটরসাইকেলে কলাবাগান যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তারা রবীন্দ্র সরোবরে মাগরিবের নামাজ পড়ে। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ওঠার সময় সাদা পোশাকধারী ৬/৭ জন লোক মুর্তজাকে ঘিরে ধরে। তারা টানাহেঁচড়া করে মুর্তজাকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে। সাবিত ওই ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। একপর্যায়ে মাইক্রোবাসটি আবাহনী মাঠের দিকে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সাবিত জানান, মুর্তজাকে তুলে নেয়া মাইক্রোবাসের পেছনে ‘ডিবি’ লেখা ছিল। সে গাড়িটির নম্বর দেখার জন্য মোটরসাইকেলে পিছু নেয়। সাবিত পেছনে ছুটতে থাকলে একপর্যায়ে মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রধারী দু’জন লোক ধাওয়া করে সাবিতকে। সাবিত জানায়, ভয়ে সে আর সামনে এগোয়নি।
থানায় জিডি নেয়নি : মুর্তজার বড় ভাই প্রভাষক আবু কাউছার মোঃ শামসুজ্জামান জানান, ভাইয়ের সন্ধানে পরের দিন তিনি ঢাকায় আসেন। বিকালে ধানমন্ডি থানায় এ বিষয়ে একটি জিডি করতে গেলে ডিউটি অফিসার জিডি নেয়নি। ওসি টেলিফোনে শামসুজ্জামানকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। তিনি বলেন, ওসি হুমকি দিয়ে বলে তোর ভাই কী করে? তুই কী করোস? শালা তোরা সন্ত্রাসী, ক্যাডার। শামসুজ্জামান আরও বলেন, ওসি জিডি গ্রহণ না করে উল্টো তাকে আটক করার হুমকি দেয়। তিনি একঘণ্টা থানার বারান্দায় ঘুরাঘুরি করেন। পরে আটক হওয়ার ভয়ে থানা থেকে চলে আসেন। তিনি বলেন, আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে কারা অপহরণ করে নিল এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারলাম না। তিনি বলেন, থানায় এ বিষয়ে কোনো কথাই বলতে দিল না পুলিশ।
সঠিক তথ্য দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : মুর্তজার আরেক বন্ধু আলমগীর হোসাইন বলেন, ঘটনার পরদিন ১৫ জুলাই তিনি মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে মুর্তজাকে খুঁজতে যান। ডিউটি অফিসারের কাছে মুর্তজা নামে কাউকে আটক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই পুলিশ সদস্য ফোনে ডিবির এক কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে ডিউটি অফিসার বলেন, আপনি যাকে খুঁজছেন তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আলমগীর দ্রুত আদালতে যান। সেখানে গিয়ে খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন এই নামে কাউকে সেদিন আদালতে পাঠানো হয়নি। আলমগীর সন্ধ্যায় আবার ডিবি কার্যালয়ে ফিরে গিয়ে বলেন, আদালতে তো মুর্তজাকে পাঠানো হয়নি। ডিবির ডিউটি অফিসার এবার তাকে জানায়, এ নামে কাউকে আটক করা হয়নি এবং ভেতরে এমন কেউ নেই। হতাশ হয়ে ফিরে আসেন তিনি। আলমগীর বলেন, এরপর উত্তরা র্যাব-১, সিআইডি ও এসবিতে গিয়ে খোঁজা হয়। কিন্তু কেউ সন্ধান দিতে পারেনি।
উদ্বিগ্ন স্বজনরা : মুর্তজার বাবা-মা বলেন, ১২ দিন পার হলেও তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী যে কাউকে গ্রেফতার করা হলে কোর্টে হাজির করা হয়। কিন্তু সেটিও করা হয়নি, যা মানবাধিকারের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আমরা তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে খুবই শঙ্কার মধ্যে আছি। তিনি বলেন, মুর্তজা কোনো অপরাধ করেনি। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই এবং সাদা পোশাকধারী যারা গ্রেফতার করেছে তারা গ্রেফতারি পরোয়ানা পর্যন্ত দেখায়নি। তাকে রাস্তা থেকে হঠাত্ করে জাপটে ধরে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় তার সন্ধান চাওয়ার পরও কোনো গোয়েন্দা বাহিনী কিছু জানাতে পারেনি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তাকে কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, তার সন্ধান দেয়া সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার, যা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়ার পরও কোর্টে কিংবা জনসম্মুখে এখনও তাকে হাজির করা হয়নি। তাই অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, গোলাম মুর্তজাকে কোথায় কীভাবে রাখা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থা কী সে সম্পর্কে জানানোর জন্য বা তাকে কোর্টে হাজির করার জন্য। তারা আরও বলেন, মুর্তজা একজন মেধাবী ছাত্র। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ২০০৭ সালে মাস্টার্স পাস করে গ্রামের বাড়ি বামনদীঘি, চারঘাট, রাজশাহী থেকে ২০০৮ সালে ঢাকায় এসে এলএলবিতে ভর্তি হয়েছিল। ঢাকায় চাকরি খুঁজছিল। পাশাপাশি শিবিরের কার্যকরী পরিষদের সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিল। সে থাকত ধানমন্ডির ৯১/এ, বশিরউদ্দিন রোড কলাবাগানে।
প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ : নিখোঁজ গোলাম মুর্তজাকে ৭ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তাকে কেন আইন অনুযায়ী আটক করা হয়নি এর ব্যাখ্যাও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই মুর্তজার ভাই শামসুজ্জামান হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট দায়ের করলে আদালত এই আদেশ দেয়। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, র্যাব ডিজি, ডিসি ডিবি, ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকার সিএমএমকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রাজা-উল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গতকাল মুর্তজার মা গুলনাহার বলেন, আদালতের নির্দেশের পরও ৫ দিন পার হলো। এখন পর্যন্ত আমরা কিছু জানি না। এ ব্যাপারে ডিবির ডিসি মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/07/25/36013
ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের পর এবার ১২ দিন ধরে নিখোঁজ শিবির নেতা গোলাম মুর্তজা (৩০)। দু’জনের নিখোঁজ হওয়ার ধরন প্রায় একই। চৌধুরী আলমকে পুলিশ পরিচয়ে এক মাস আগে আটক করা হয় ইন্দিরা রোড থেকে। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ নেই। অন্যদিকে মুর্তজাকেও ডিবি পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে আটক করে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে। তারও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মুর্তজা বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে জানে না পরিবার। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গত ১৪ জুলাই আটক করে মাইক্রোবাসে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা। প্রিয় ছেলের সন্ধান না পেয়ে গুম, হত্যার আশঙ্কায় মুর্তজার বাবা-মার ঘুম নেই। তার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে উদ্বিগ্ন পরিবারটি। আত্মীয়স্বজনরা ডিবি, সিআইডি, র্যাব ও ধানমন্ডি থানায় গিয়ে খোঁজ করেছেন। কেউ সন্ধান দিতে পারেনি। কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে? কোথায় রাখা হয়েছে তারা জানতে চান। এ ব্যাপারে আত্মীয়স্বজনরা হাইকোর্টে রিটও করেছেন। আদালত স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশকে এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্তজাকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনও কোনো সংস্থা মুর্তজাকে আটক করার কথা স্বীকার করেনি।
মুর্তজার বাবা-মা ছেলের চিন্তায় ব্যাকুল। মুর্তজা বেঁচে আছে কিনা জানেন না। বেঁচে থাকলে কেন তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। ছেলের খোঁজে বাবা আবদুল লতিফ ও মা গুলনাহার রাজশাহী থেকে ঢাকা এসে বিভিন্ন স্থানে খুঁজছেন। উপায়ন্তর না দেখে গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা বলেন, আমাদের ছেলের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। কোনো থানায় মামলা নেই। তাকে কী কারণে আটক করা হলো? কারা আটক করছে আমরা কিছুই জানি না। সে কোনো অপরাধ করে থাকলে আইনের হাতে তুলে দেয়া হোক।
যেভাবে আটক হয় : গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় গোলাম মুর্তজা তার বন্ধু আবদুল্লাহ সাবিতকে নিয়ে পুরানা পল্টন থেকে মোটরসাইকেলে কলাবাগান যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তারা রবীন্দ্র সরোবরে মাগরিবের নামাজ পড়ে। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ওঠার সময় সাদা পোশাকধারী ৬/৭ জন লোক মুর্তজাকে ঘিরে ধরে। তারা টানাহেঁচড়া করে মুর্তজাকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে। সাবিত ওই ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। একপর্যায়ে মাইক্রোবাসটি আবাহনী মাঠের দিকে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সাবিত জানান, মুর্তজাকে তুলে নেয়া মাইক্রোবাসের পেছনে ‘ডিবি’ লেখা ছিল। সে গাড়িটির নম্বর দেখার জন্য মোটরসাইকেলে পিছু নেয়। সাবিত পেছনে ছুটতে থাকলে একপর্যায়ে মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রধারী দু’জন লোক ধাওয়া করে সাবিতকে। সাবিত জানায়, ভয়ে সে আর সামনে এগোয়নি।
থানায় জিডি নেয়নি : মুর্তজার বড় ভাই প্রভাষক আবু কাউছার মোঃ শামসুজ্জামান জানান, ভাইয়ের সন্ধানে পরের দিন তিনি ঢাকায় আসেন। বিকালে ধানমন্ডি থানায় এ বিষয়ে একটি জিডি করতে গেলে ডিউটি অফিসার জিডি নেয়নি। ওসি টেলিফোনে শামসুজ্জামানকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। তিনি বলেন, ওসি হুমকি দিয়ে বলে তোর ভাই কী করে? তুই কী করোস? শালা তোরা সন্ত্রাসী, ক্যাডার। শামসুজ্জামান আরও বলেন, ওসি জিডি গ্রহণ না করে উল্টো তাকে আটক করার হুমকি দেয়। তিনি একঘণ্টা থানার বারান্দায় ঘুরাঘুরি করেন। পরে আটক হওয়ার ভয়ে থানা থেকে চলে আসেন। তিনি বলেন, আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে কারা অপহরণ করে নিল এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারলাম না। তিনি বলেন, থানায় এ বিষয়ে কোনো কথাই বলতে দিল না পুলিশ।
সঠিক তথ্য দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : মুর্তজার আরেক বন্ধু আলমগীর হোসাইন বলেন, ঘটনার পরদিন ১৫ জুলাই তিনি মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে মুর্তজাকে খুঁজতে যান। ডিউটি অফিসারের কাছে মুর্তজা নামে কাউকে আটক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই পুলিশ সদস্য ফোনে ডিবির এক কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে ডিউটি অফিসার বলেন, আপনি যাকে খুঁজছেন তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আলমগীর দ্রুত আদালতে যান। সেখানে গিয়ে খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন এই নামে কাউকে সেদিন আদালতে পাঠানো হয়নি। আলমগীর সন্ধ্যায় আবার ডিবি কার্যালয়ে ফিরে গিয়ে বলেন, আদালতে তো মুর্তজাকে পাঠানো হয়নি। ডিবির ডিউটি অফিসার এবার তাকে জানায়, এ নামে কাউকে আটক করা হয়নি এবং ভেতরে এমন কেউ নেই। হতাশ হয়ে ফিরে আসেন তিনি। আলমগীর বলেন, এরপর উত্তরা র্যাব-১, সিআইডি ও এসবিতে গিয়ে খোঁজা হয়। কিন্তু কেউ সন্ধান দিতে পারেনি।
উদ্বিগ্ন স্বজনরা : মুর্তজার বাবা-মা বলেন, ১২ দিন পার হলেও তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী যে কাউকে গ্রেফতার করা হলে কোর্টে হাজির করা হয়। কিন্তু সেটিও করা হয়নি, যা মানবাধিকারের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আমরা তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে খুবই শঙ্কার মধ্যে আছি। তিনি বলেন, মুর্তজা কোনো অপরাধ করেনি। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই এবং সাদা পোশাকধারী যারা গ্রেফতার করেছে তারা গ্রেফতারি পরোয়ানা পর্যন্ত দেখায়নি। তাকে রাস্তা থেকে হঠাত্ করে জাপটে ধরে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় তার সন্ধান চাওয়ার পরও কোনো গোয়েন্দা বাহিনী কিছু জানাতে পারেনি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তাকে কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, তার সন্ধান দেয়া সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার, যা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়ার পরও কোর্টে কিংবা জনসম্মুখে এখনও তাকে হাজির করা হয়নি। তাই অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, গোলাম মুর্তজাকে কোথায় কীভাবে রাখা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থা কী সে সম্পর্কে জানানোর জন্য বা তাকে কোর্টে হাজির করার জন্য। তারা আরও বলেন, মুর্তজা একজন মেধাবী ছাত্র। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ২০০৭ সালে মাস্টার্স পাস করে গ্রামের বাড়ি বামনদীঘি, চারঘাট, রাজশাহী থেকে ২০০৮ সালে ঢাকায় এসে এলএলবিতে ভর্তি হয়েছিল। ঢাকায় চাকরি খুঁজছিল। পাশাপাশি শিবিরের কার্যকরী পরিষদের সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিল। সে থাকত ধানমন্ডির ৯১/এ, বশিরউদ্দিন রোড কলাবাগানে।
প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ : নিখোঁজ গোলাম মুর্তজাকে ৭ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তাকে কেন আইন অনুযায়ী আটক করা হয়নি এর ব্যাখ্যাও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই মুর্তজার ভাই শামসুজ্জামান হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট দায়ের করলে আদালত এই আদেশ দেয়। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, র্যাব ডিজি, ডিসি ডিবি, ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকার সিএমএমকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রাজা-উল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গতকাল মুর্তজার মা গুলনাহার বলেন, আদালতের নির্দেশের পরও ৫ দিন পার হলো। এখন পর্যন্ত আমরা কিছু জানি না। এ ব্যাপারে ডিবির ডিসি মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/07/25/36013
Thursday, 22 July 2010
Democracy Crisis in Bangladesh

WASHINGTON, July 22 /PRNewswire-USNewswire/ -- A coalition of faith leaders and human right activists (The Coalition for Freedom and Democracy in Bangladesh) is calling upon members of congress and the state department to express their disapproval of the series of arrests and political crackdown against the political opposition to the Awami League (AL), the ruling political party in Bangladesh. The AL came to power in December 2008 after two years of military rule. Bangladesh often referred to as a moderate "democratic developing" country is the home of ten percent of the world Muslim population.
This coalition is concerned that the current Awami League government is suppressing free speech and the right of dissent in that nation. Over the last eighteen months, the AL has closed down newspapers and a television station, neutered an independent judiciary, and unjustly arrested many opposition leaders and students. On June 29th, 2010, the Secretary General and Deputy Secretary General of the Bangladesh Jamat Islami (BJI), the largest democratic Islamic party and part of the political opposition, were arrested on what many human rights groups have categorized as frivolous charges.
A member of the coalition, Reverend Grayland Hagler, stated that "our government must not betray the values of democracy and open governance for the people of Bangladesh. The support for autocratic regime betrays our values as Americans and citizens of the world. As people of faith we must be advocates for global justice."
Also, the American Muslim Task Force for Civil Rights and Elections, a national Muslim umbrella organization, expressed concern that these crackdowns both jeopardize the rule of law in Bangladesh and increase the volatility that already exist in the region.
A Bengali dissent living in Washington D.C. area, who asks not to be identified by name for fear of family reprisal, said that "If a great country like America continues to support this government's repressive policies, it will alienate the majority of the Bangladeshi people who embrace pluralism, democracy and political change through peaceful means."
The coalition describes itself as a human rights and democracy advocacy campaign for the people of Bangladesh, and stated that the primary goal of the campaign is to call the American people and government to adopt new policies in support of democracy and human rights in Bangladesh. The group also calls on the United Nations Human Rights Council to launch an investigation into human right abuses in that nation.
SOURCE The Coalition for Freedom and Democracy in Bangladesh
http://www.prnewswire.com/news-releases/democracy-crisis-in-bangladesh-99015424.html
http://news. yahoo.com/ s/usnw/20100722/ pl_usnw/DC38904
http://boston. bizjournals. com/prnewswire/ press_releases/ Bangladesh/ 2010/07/22/ DC38904
http://newsblaze. com/story/ 2010072207020200 001.pnw/topstory .html
http://boston. bizjournals. com/prnewswire/ press_releases/ Bangladesh/ 2010/07/22/ DC38904
http://www.sunheral d.com/2010/ 07/22/2350022/ democracy- crisis-in- bangladesh. html
http://www.forbes. com/feeds/ prnewswire/ 2010/07/22/ prnewswire201007 221001PR_ NEWS_USPR_ ____DC38904. html
http://www.foxbusin ess.com/story/ democracy- crisis-banglades h/
http://americanidol izing.com/ gossip/Democracy -Crisis-in- Bangladesh- 5087527.html
http://www.sacbee. com/2010/ 07/22/2907767/ democracy- crisis-in- bangladesh. html
http://uspolitics. einnews.com/ article.php? nid=895925
http://classic. cnbc.com/ id/38360850
http://www.thestree t.com/story/ 10814263/ 1/democracy- crisis-in- bangladesh. html
http://1click. indiatimes. com/article/ 005g6Y46I88wO? q=Bangladesh
Muslim, Interfaith and Human Right Leaders Concerned About Crisis of Democracy in Bangladesh
July 20, 2010
Filed under: From the Desk of Imam Mahdi Bray — Imam Mahdi Bray @ 4:21 pm
The current crackdown on political opposition, students, journalists and academicians by the ruling party (Awami League) in Bangladesh is receiving very little attention from the media and the United States Government. Yet its potentials for increasing destabilization in an already volatile religion could be devastating. Check out the piece below. Imam Mahdi Bray
Current Crackdown on Opposition Could Further Destabilize the Region
National Muslim organizations, interfaith leaders and human right activists in the United States are concerned that the recent arrest of key leaders of the Islamic Movement in Bangladesh (Jamaat-e-Islami), student activists, journalists and members of the political opposition have created a huge crisis in the nation. These actions by the Bangladesh ruling party coalition (Awami League) might well result in violent confrontations between political dissidents and the government. There is also concern that the current U.S. government support for AL may actually reinforce, and protect, ongoing human rights violations that contradict the stated objectives of American foreign policy in this volatile region.
Many human rights experts also contend that these arrests and human rights violations are often carried out under the pretext of a Bangladesh government response to “terrorism”.
These arrests come at a time when AL is being accused of acts of extrajudicial killings, arrests, rape, and even the torture of the members of the Islamic opposition party which holds some 17 seats in the national legislature, and commands a following of some 12 million people in Bangladesh, according to the Christian Science Monitor, Amnesty International, Human Rights Watch and the US State Department’s Human Rights Report on Bangladesh.
The national Muslim umbrella organization, the American Muslim Task Force on Civil Rights and Elections (AMT) under the leadership of Dr. Agha Saeed, has expressed grave concern over the human rights conditions in Bangladesh. American Muslim leaders have also expressed that the current government’s descent into authoritarianism, oppression of religious elements: dismantling freedoms, violating human rights and ending practices that promote transparency could be exploited by extremist movements that, unlike Jamaat-e-Islami, BNP and other opposition groups, do not advocate peaceful means for social change in Bangladesh.
There is also concern that the current crackdown and arrest of Jamaat-e-Islami leaders, including the head of the Jamaat, Hajj Moitur Rahman Nizami, is meant to coincide with the start of a national tribunal investigating war crimes committed in 1971. That was when Bangladesh, formerly known as East Pakistan, broke away from West Pakistan to establish an autonomous, predominantly Bengali republic. While the Awami League indicts the Islamic movement for complicity in the killings of civilians in this period of turmoil, other reliable sources contend that these acts of violence were carried out by other Bengalis who sided with the then-West Pakistan army.
Also, the current crackdown jeopardizes the rule of law, and the social and legal space that nonviolent opponents of the current Bangladeshi government. While the Jamaat-e-Islami functions as a peaceful political opposition force in the country, some observers recognize the potential for mass violence in Bangladesh if the Awami League, and its political allies, continue their attack on Islamic opposition figures, trade unionists, intellectuals, and others dissidents.
An interfaith and human rights coalition is currently preparing to visit U.S. State Department officials and members of Congress to express its concerns about these events, and about current United States foreign policy in the region. We believe that US support for the current regime and its policy will only impede efforts for nonviolent political change in Bangladesh, and potentially isolate America from progressive, nonviolent forces in that nation who now suffer from government repression.
http://mahdibray.net/2010/07/20/muslim-interfaith-and-human-right-leaders-concerned-about-crisis-of-democracy-in-bangladesh/
Filed under: From the Desk of Imam Mahdi Bray — Imam Mahdi Bray @ 4:21 pm
The current crackdown on political opposition, students, journalists and academicians by the ruling party (Awami League) in Bangladesh is receiving very little attention from the media and the United States Government. Yet its potentials for increasing destabilization in an already volatile religion could be devastating. Check out the piece below. Imam Mahdi Bray
Current Crackdown on Opposition Could Further Destabilize the Region
National Muslim organizations, interfaith leaders and human right activists in the United States are concerned that the recent arrest of key leaders of the Islamic Movement in Bangladesh (Jamaat-e-Islami), student activists, journalists and members of the political opposition have created a huge crisis in the nation. These actions by the Bangladesh ruling party coalition (Awami League) might well result in violent confrontations between political dissidents and the government. There is also concern that the current U.S. government support for AL may actually reinforce, and protect, ongoing human rights violations that contradict the stated objectives of American foreign policy in this volatile region.
Many human rights experts also contend that these arrests and human rights violations are often carried out under the pretext of a Bangladesh government response to “terrorism”.
These arrests come at a time when AL is being accused of acts of extrajudicial killings, arrests, rape, and even the torture of the members of the Islamic opposition party which holds some 17 seats in the national legislature, and commands a following of some 12 million people in Bangladesh, according to the Christian Science Monitor, Amnesty International, Human Rights Watch and the US State Department’s Human Rights Report on Bangladesh.
The national Muslim umbrella organization, the American Muslim Task Force on Civil Rights and Elections (AMT) under the leadership of Dr. Agha Saeed, has expressed grave concern over the human rights conditions in Bangladesh. American Muslim leaders have also expressed that the current government’s descent into authoritarianism, oppression of religious elements: dismantling freedoms, violating human rights and ending practices that promote transparency could be exploited by extremist movements that, unlike Jamaat-e-Islami, BNP and other opposition groups, do not advocate peaceful means for social change in Bangladesh.
There is also concern that the current crackdown and arrest of Jamaat-e-Islami leaders, including the head of the Jamaat, Hajj Moitur Rahman Nizami, is meant to coincide with the start of a national tribunal investigating war crimes committed in 1971. That was when Bangladesh, formerly known as East Pakistan, broke away from West Pakistan to establish an autonomous, predominantly Bengali republic. While the Awami League indicts the Islamic movement for complicity in the killings of civilians in this period of turmoil, other reliable sources contend that these acts of violence were carried out by other Bengalis who sided with the then-West Pakistan army.
Also, the current crackdown jeopardizes the rule of law, and the social and legal space that nonviolent opponents of the current Bangladeshi government. While the Jamaat-e-Islami functions as a peaceful political opposition force in the country, some observers recognize the potential for mass violence in Bangladesh if the Awami League, and its political allies, continue their attack on Islamic opposition figures, trade unionists, intellectuals, and others dissidents.
An interfaith and human rights coalition is currently preparing to visit U.S. State Department officials and members of Congress to express its concerns about these events, and about current United States foreign policy in the region. We believe that US support for the current regime and its policy will only impede efforts for nonviolent political change in Bangladesh, and potentially isolate America from progressive, nonviolent forces in that nation who now suffer from government repression.
http://mahdibray.net/2010/07/20/muslim-interfaith-and-human-right-leaders-concerned-about-crisis-of-democracy-in-bangladesh/
মুজাহিদ, সাঈদী, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লা আলাদা মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে
আদালত প্রতিবেদক | তারিখ: ১৯-০৭-২০১০
আদালত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লাকে পৃথক মামলায় তিন দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। আজ সোমবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রিমান্ড শেষে পৃথক মামলায় এই চার নেতাকে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ: আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে গোপন বৈঠকের মামলায় তিন দিন রিমান্ড শেষে মহানগর হাকিম কামরুন নাহার রুমির আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলায় নতুন করে রিমান্ড না থাকায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে একই আদালতে উত্তরা ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ডিবি)। মুজাহিদের আইনজীবীদের জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী: দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে লেখক হুমায়ুন আজাদকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মহানগর হাকিম তোফায়েল হাসানের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে সিআইডি। এ মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লা: কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লাকে রাজধানীর পল্লবীতে গণহত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে সিআইডি। এ মামলায় নতুন করে রিমান্ড না থাকায় আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে পল্টন থানার পুলিশ রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করে। মহানগর হাকিম আব্দুল মজিদ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলার রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আসামিদের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক আদালতকে বলেন, টানা পাঁচ দিন রিমান্ডে থাকায় আসামিরা অসুস্থ। তিনি আসামিদের কারাগারে না পাঠিয়ে চিকিত্সার আবেদন করেন।
কামারুজ্জামান আদালতকে বলেন, রিমান্ডে নিয়ে আমাকে যা করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আদালতে তিনি অসুস্থ বলে দাবি করেন। আবার রিমান্ডে দিলে তিনি জীবন্ত ফিরবেন কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-07-19/news/79969
আদালত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লাকে পৃথক মামলায় তিন দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। আজ সোমবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রিমান্ড শেষে পৃথক মামলায় এই চার নেতাকে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ: আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে গোপন বৈঠকের মামলায় তিন দিন রিমান্ড শেষে মহানগর হাকিম কামরুন নাহার রুমির আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলায় নতুন করে রিমান্ড না থাকায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে একই আদালতে উত্তরা ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ডিবি)। মুজাহিদের আইনজীবীদের জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী: দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে লেখক হুমায়ুন আজাদকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মহানগর হাকিম তোফায়েল হাসানের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে সিআইডি। এ মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লা: কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লাকে রাজধানীর পল্লবীতে গণহত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে সিআইডি। এ মামলায় নতুন করে রিমান্ড না থাকায় আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে পল্টন থানার পুলিশ রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করে। মহানগর হাকিম আব্দুল মজিদ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলার রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আসামিদের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক আদালতকে বলেন, টানা পাঁচ দিন রিমান্ডে থাকায় আসামিরা অসুস্থ। তিনি আসামিদের কারাগারে না পাঠিয়ে চিকিত্সার আবেদন করেন।
কামারুজ্জামান আদালতকে বলেন, রিমান্ডে নিয়ে আমাকে যা করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আদালতে তিনি অসুস্থ বলে দাবি করেন। আবার রিমান্ডে দিলে তিনি জীবন্ত ফিরবেন কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-07-19/news/79969
Sunday, 18 July 2010
অধিকার-এর রিপোর্ট : নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছেই
ইলিয়াস খান
দেশের নিরাপত্তা হেফাজতে এখন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ছয় মাসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে নিহত ৬১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে। এছাড়া অর্থের জন্য সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ভূমি দখল, লুটপাট, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে র্যাব-পুলিশের সদস্যরা জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংগঠন প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। এতে সারাদেশে মারাত্মক ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে, গত ছয় মাসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে র্যাবের হাতে ২৯ জন, পুলিশের হাতে ২৫ জন এবং র্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৪ জন মারা যান। এই ৬১ জনের মধ্যে ১৩ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে থাকাকালে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ক্রসফায়ারে ৫২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে র্যাবের হাতে ২৭ জন, পুলিশের হাতে ১৮ জন, র্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৪ জন এবং ৩ জন র্যাব- কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন। এসময় মোট ১২ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্যাতনে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে র্যাব হেফাজতে ২ জন এবং পুলিশের নির্যাতনে ১০ জন নিহত হয়েছেন। গত ৬ মাসে জেলহাজতেও ৩৮ জন মারা যান। এদের মধ্যে ২ জন মারা যান কোর্ট হাজতে এবং ২ জন র্যাব হেফাজতে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যানুযায়ী, এ সরকারের গত ৬ মাসে ৬৬ জন এবং গত ১৭ মাসে ১৩৭ জনকে র্যাব-পুলিশ হত্যা করেছে। রাজধানীতেও সম্প্রতি ৩ জনকে ধরে নিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে গত দেড় বছরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দেশব্যাপী সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটালেও পুলিশ-র্যাব নীরব ভূমিকা পালন করে। উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও আটকের খবর তেমন পাওয়া যায় না।
অভিযোগ আছে যে, সম্প্রতি রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় শিশুপুত্রের সামনেই মজিবর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আটক করে পুলিশ। পরদিন তার লাশ তুরাগ নদীতে পাওয়া যায়। এর আগে গুলশানের বাসা থেকে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে (৪২) আটক করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, থানা হেফাজতে দু’দিন রাখার পর ঘুষ না দেয়ায় পুলিশ তাকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে ছিনতাইকালে পুলিশের হাতে তিনি নিহত হন বলে দাবি করেছে গুলশান থানা পুলিশ। এছাড়া রমনা থানা হেফাজতে অটোরিকশা চালক বাবুল গাজী (৪০) নিহত হন। তার স্ত্রী সুভা আক্তার অভিযোগ করেন, ঘুষ না পেয়ে থানার এক এসআই তাকে পিটিয়ে মেরেছে। এর আগে গত ৯ মার্চ রমনা থানায় গাড়ি চুরির মামলায় আটক জাকির হোসেন (৪৫) মারা যান।
শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, আরও নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে র্যাব-পুলিশ। গত ১৯ ডিসেম্বর ৩টি চোরাই গাড়িসহ পুলিশের সিলেট ডিআইজি অফিসের হাবিলদার তাজুল ইসলামকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি নজরুল ইসলাম নাম ব্যবহার করে নিজেকে সার্জেন্ট পরিচয় দিয়ে চোরাই গাড়ি বিক্রি করতেন। এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ১৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের সময় আদাবর থানার এএসআই মাইনুল হক গ্রেফতার হন। তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন রাজধানীর কোতোয়ালি থানার এসআই রওশন জামান ও ঢাকা ডিবির কনস্টেবল সাজু। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মতিঝিলে পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পৌনে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। দুপুর ২টার দিকে মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে শত শত পথচারীর সামনে এ ঘটনা ঘটে। বাড্ডা থানার এসআই তানভীর আহম্মদ ও এএসআই মিজান গত ১১ নভেম্বর রাতে গফুর হাওলাদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন। পরে তিনি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের সিকিউরিটি সেলে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা গফুর হাওলাদারের ছেলে রাসেলকে ধরে থানায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর দারুস সালাম থানার এসআই হেকমত আলী স্থানীয় ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানকে তার বাসা থেকে ধরে দু’লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় তাকে একটি হত্যা মামলায় পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। পরে মেহেদির স্ত্রী নার্গিস এসআই হেকমত আলী ও ওসি মোস্তাক আহম্মেদকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তার স্বামীকে পুলিশের হয়রানি থেকে রক্ষা করেন।
র্যাব-পুলিশ কর্তৃক আটকের পর নিখোঁজ বা গুপ্তহত্যা নিয়ে সারাদেশের সর্বমহলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আটকের পর অনেকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং পরে কারও কারও লাশ উদ্ধার হচ্ছে। ভিকটিমদের পরিবারগুলো দাবি করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাদের আটক করে নিয়ে গেছে। পরে অনেকের লাশও উদ্ধার হয়েছে। বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম র্যাব কর্তৃক গত ২৫ জুন আটকের পর হতে নিখোঁজ রয়েছেন। তার পরিবার থেকে সরকারসহ নানা মহলে যোগাযোগ করেও কোনো খবর আজও পাওয়া যায়নি। গত ২৭ এপ্রিল মিজানুর রহমান সুমন নামের এক ব্যবসায়ীকে সাদা পোশাকধারী র্যাব সদস্যরা গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। সুমনের স্ত্রী সুরভী আক্তার গত ৩০ এপ্রিল ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে র্যাব কার্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সুমনের কোনো হদিস পাননি তারা। গত ১৯ মার্চ র্যাব-৫-এর সদস্যরা ঠাকুরগাঁও সালন্দার নওলাপাড়ার কাঠ ব্যবসায়ী মো. আকবর আলী সরদার (২৮) এবং একই গ্রামের বিপিন চন্দ্র সরকারকে (৩৬) সালন্দার বিশ্ব ইসলামী মিশন মসজিদের সামনের রাস্তা থেকে আটক করে নিয়ে যায়। ২০ মার্চ বিপিন সরকারকে র্যাব ছেড়ে দিলেও আকবরের কোনো খোঁজ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আকবরের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও থানায় জিডি বা মামলা করতে চাইলে থানা পুলিশ এর কোনোটাই গ্রহণ করেনি। পরে আকবরের পরিবার ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে র্যাব-৫-এর কাছে আকবরের খোঁজ করলে তারা আকবরের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি র্যাব সদস্য পরিচয়ে কতিপয় ব্যক্তি গাজীপুরের কাপাসিয়ার ফল বিক্রেতা মো. সেলিমকে ধরে নিয়ে যায়। তার পরিবারের অভিযোগ, র্যাব-৪-এর একটি দল সেলিমকে তার দু’বন্ধু মইনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীসহ গ্রেফতার করে। মইনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতারের বিষয়টি র্যাব-৪ স্বীকার করলেও মো. সেলিমের কথা অস্বীকার করে। র্যাব মইনুল ইসলামকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় সোপর্দ করে এবং মোহাম্মদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ঘটনার পর থেকে সেলিম নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশ হেফাজতে অব্যাহতভাবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছেই। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায়ই নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ তাদের হত্যা করেছে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা পুলিশ অস্বীকার করে আসছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, পত্রিকায় যা লেখা হয়, তা বানোয়াটও হতে পারে। আর পুলিশ কাউকে ধরলেই সে ভালো হয়ে যায়। পুলিশ কর্তৃক শেষ ৩টি হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের বলেছেন, এ তিনটি ঘটনাই বিচ্ছিন্ন। তবে এতে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
এদিকে প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এ কমিটির ওপর আস্থা নেই নিহতদের স্বজনদের। মৃত মজিবরের ভাই বলেছেন, পুলিশি তদন্তে আস্থা নেই। পুলিশ হেফাজতে হাজতির মৃত্যুর ঘটনায় সুরাহা চেয়ে সম্প্রতি বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এর পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এলিনা খান। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেফাজতে হাজতির মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। হাজতির মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধে কেন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না মর্মে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি পুলিশ কমিশনারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তিন সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট এবং এ সমস্যার সমাধান ও সর্বজনীন রায় প্রদানের লক্ষ্যে আদালত ১১ আইনজীবীকে এমিকাস কিউরিও নিয়োগ দিয়েছেন। এরা হলেন : ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ড. এম জহির, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম, আবদুল বাছেত মজুমদার, আবদুল মতিন খসরু, আনিসুল হক ও ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/07/19/35308
দেশের নিরাপত্তা হেফাজতে এখন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ছয় মাসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে নিহত ৬১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে। এছাড়া অর্থের জন্য সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ভূমি দখল, লুটপাট, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে র্যাব-পুলিশের সদস্যরা জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংগঠন প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। এতে সারাদেশে মারাত্মক ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে, গত ছয় মাসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে র্যাবের হাতে ২৯ জন, পুলিশের হাতে ২৫ জন এবং র্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৪ জন মারা যান। এই ৬১ জনের মধ্যে ১৩ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে থাকাকালে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ক্রসফায়ারে ৫২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে র্যাবের হাতে ২৭ জন, পুলিশের হাতে ১৮ জন, র্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৪ জন এবং ৩ জন র্যাব- কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন। এসময় মোট ১২ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্যাতনে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে র্যাব হেফাজতে ২ জন এবং পুলিশের নির্যাতনে ১০ জন নিহত হয়েছেন। গত ৬ মাসে জেলহাজতেও ৩৮ জন মারা যান। এদের মধ্যে ২ জন মারা যান কোর্ট হাজতে এবং ২ জন র্যাব হেফাজতে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যানুযায়ী, এ সরকারের গত ৬ মাসে ৬৬ জন এবং গত ১৭ মাসে ১৩৭ জনকে র্যাব-পুলিশ হত্যা করেছে। রাজধানীতেও সম্প্রতি ৩ জনকে ধরে নিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে গত দেড় বছরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দেশব্যাপী সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটালেও পুলিশ-র্যাব নীরব ভূমিকা পালন করে। উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও আটকের খবর তেমন পাওয়া যায় না।
অভিযোগ আছে যে, সম্প্রতি রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় শিশুপুত্রের সামনেই মজিবর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আটক করে পুলিশ। পরদিন তার লাশ তুরাগ নদীতে পাওয়া যায়। এর আগে গুলশানের বাসা থেকে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে (৪২) আটক করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, থানা হেফাজতে দু’দিন রাখার পর ঘুষ না দেয়ায় পুলিশ তাকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে ছিনতাইকালে পুলিশের হাতে তিনি নিহত হন বলে দাবি করেছে গুলশান থানা পুলিশ। এছাড়া রমনা থানা হেফাজতে অটোরিকশা চালক বাবুল গাজী (৪০) নিহত হন। তার স্ত্রী সুভা আক্তার অভিযোগ করেন, ঘুষ না পেয়ে থানার এক এসআই তাকে পিটিয়ে মেরেছে। এর আগে গত ৯ মার্চ রমনা থানায় গাড়ি চুরির মামলায় আটক জাকির হোসেন (৪৫) মারা যান।
শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, আরও নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে র্যাব-পুলিশ। গত ১৯ ডিসেম্বর ৩টি চোরাই গাড়িসহ পুলিশের সিলেট ডিআইজি অফিসের হাবিলদার তাজুল ইসলামকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি নজরুল ইসলাম নাম ব্যবহার করে নিজেকে সার্জেন্ট পরিচয় দিয়ে চোরাই গাড়ি বিক্রি করতেন। এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ১৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের সময় আদাবর থানার এএসআই মাইনুল হক গ্রেফতার হন। তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন রাজধানীর কোতোয়ালি থানার এসআই রওশন জামান ও ঢাকা ডিবির কনস্টেবল সাজু। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মতিঝিলে পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পৌনে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। দুপুর ২টার দিকে মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে শত শত পথচারীর সামনে এ ঘটনা ঘটে। বাড্ডা থানার এসআই তানভীর আহম্মদ ও এএসআই মিজান গত ১১ নভেম্বর রাতে গফুর হাওলাদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন। পরে তিনি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের সিকিউরিটি সেলে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা গফুর হাওলাদারের ছেলে রাসেলকে ধরে থানায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর দারুস সালাম থানার এসআই হেকমত আলী স্থানীয় ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানকে তার বাসা থেকে ধরে দু’লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় তাকে একটি হত্যা মামলায় পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। পরে মেহেদির স্ত্রী নার্গিস এসআই হেকমত আলী ও ওসি মোস্তাক আহম্মেদকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তার স্বামীকে পুলিশের হয়রানি থেকে রক্ষা করেন।
র্যাব-পুলিশ কর্তৃক আটকের পর নিখোঁজ বা গুপ্তহত্যা নিয়ে সারাদেশের সর্বমহলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আটকের পর অনেকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং পরে কারও কারও লাশ উদ্ধার হচ্ছে। ভিকটিমদের পরিবারগুলো দাবি করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাদের আটক করে নিয়ে গেছে। পরে অনেকের লাশও উদ্ধার হয়েছে। বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম র্যাব কর্তৃক গত ২৫ জুন আটকের পর হতে নিখোঁজ রয়েছেন। তার পরিবার থেকে সরকারসহ নানা মহলে যোগাযোগ করেও কোনো খবর আজও পাওয়া যায়নি। গত ২৭ এপ্রিল মিজানুর রহমান সুমন নামের এক ব্যবসায়ীকে সাদা পোশাকধারী র্যাব সদস্যরা গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। সুমনের স্ত্রী সুরভী আক্তার গত ৩০ এপ্রিল ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে র্যাব কার্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সুমনের কোনো হদিস পাননি তারা। গত ১৯ মার্চ র্যাব-৫-এর সদস্যরা ঠাকুরগাঁও সালন্দার নওলাপাড়ার কাঠ ব্যবসায়ী মো. আকবর আলী সরদার (২৮) এবং একই গ্রামের বিপিন চন্দ্র সরকারকে (৩৬) সালন্দার বিশ্ব ইসলামী মিশন মসজিদের সামনের রাস্তা থেকে আটক করে নিয়ে যায়। ২০ মার্চ বিপিন সরকারকে র্যাব ছেড়ে দিলেও আকবরের কোনো খোঁজ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আকবরের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও থানায় জিডি বা মামলা করতে চাইলে থানা পুলিশ এর কোনোটাই গ্রহণ করেনি। পরে আকবরের পরিবার ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে র্যাব-৫-এর কাছে আকবরের খোঁজ করলে তারা আকবরের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি র্যাব সদস্য পরিচয়ে কতিপয় ব্যক্তি গাজীপুরের কাপাসিয়ার ফল বিক্রেতা মো. সেলিমকে ধরে নিয়ে যায়। তার পরিবারের অভিযোগ, র্যাব-৪-এর একটি দল সেলিমকে তার দু’বন্ধু মইনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীসহ গ্রেফতার করে। মইনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতারের বিষয়টি র্যাব-৪ স্বীকার করলেও মো. সেলিমের কথা অস্বীকার করে। র্যাব মইনুল ইসলামকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় সোপর্দ করে এবং মোহাম্মদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ঘটনার পর থেকে সেলিম নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশ হেফাজতে অব্যাহতভাবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছেই। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায়ই নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ তাদের হত্যা করেছে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা পুলিশ অস্বীকার করে আসছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, পত্রিকায় যা লেখা হয়, তা বানোয়াটও হতে পারে। আর পুলিশ কাউকে ধরলেই সে ভালো হয়ে যায়। পুলিশ কর্তৃক শেষ ৩টি হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের বলেছেন, এ তিনটি ঘটনাই বিচ্ছিন্ন। তবে এতে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
এদিকে প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এ কমিটির ওপর আস্থা নেই নিহতদের স্বজনদের। মৃত মজিবরের ভাই বলেছেন, পুলিশি তদন্তে আস্থা নেই। পুলিশ হেফাজতে হাজতির মৃত্যুর ঘটনায় সুরাহা চেয়ে সম্প্রতি বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এর পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এলিনা খান। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেফাজতে হাজতির মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। হাজতির মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধে কেন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না মর্মে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি পুলিশ কমিশনারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তিন সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট এবং এ সমস্যার সমাধান ও সর্বজনীন রায় প্রদানের লক্ষ্যে আদালত ১১ আইনজীবীকে এমিকাস কিউরিও নিয়োগ দিয়েছেন। এরা হলেন : ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ড. এম জহির, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম, আবদুল বাছেত মজুমদার, আবদুল মতিন খসরু, আনিসুল হক ও ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/07/19/35308
Subscribe to:
Posts (Atom)